ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ , ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ'রাজী'র্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁ'কি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যা'হত পাঠদান, আ'কুতি পাকা ভবনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৭ ১৯:০৪:৪৭
জ'রাজী'র্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁ'কি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যা'হত পাঠদান, আ'কুতি পাকা ভবনের জরাজীর্ণ টিনশেডে চরম ঝুঁকি: কাউখালীর উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাহত পাঠদান, আকুতি পাকা ভবনের
কাউখালী প্রতিনিধি:



পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। টিনের চালের অসংখ্য ছিদ্র, কাদায় ভরা মাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং ব্যবহার অনুপযোগী খেলার মাঠের কারণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এ বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ টিনের চালে মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই চাল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়। মাটির মেঝে ভিজে কাদা হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরের তীব্র উত্তাপে শিক্ষার্থীরা ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে নিচু খেলার মাঠে পানি জমে থাকার কারণে খেলাধুলার সুযোগও বন্ধ। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ইভা, আলভি রহমান ও নিলয় মিস্ত্রি আকুতি জানিয়ে বলে, "বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা সব ভিজে যায়। আর গরমের দিনে টিনের চালে ঘরের ভেতরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যান্য স্কুলের মতো আমরাও একটি আধুনিক পাকা ভবনে নিরাপদে বসে পড়াশোনা করতে চাই। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ বর্তমানে মাত্র সাতটি জরাজীর্ণ কক্ষে সম্পন্ন হচ্ছে। এত সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও মেধা তালিকায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।


অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করে জানান, সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও দীর্ঘ পাঁচ দশকেও এই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোমলমতি সন্তানদের নিরাপদ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানান তারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার বলেন, "আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। ঝড়-বৃষ্টির দিনে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন বহুতল ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, "উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবনের প্রাক্কলন পাঠাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পাকা ভবন নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ


আসাদুজ্জামান জানান, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নত রাখা এবং শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ অবস্থার সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে খুব শিগগিরই পাকা ভবন বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ